খামারের ওপর উত্তরাধিকার কর

লেবার সরকারের ওপর ব্রিটিশ কৃষকদের ক্ষোভ বাড়ছে

যুক্তরাজ্যের বার্ষিক ‘অক্সফোর্ড ফার্মিং কনফারেন্সে’ সম্প্রতি এক অভিনব দৃশ্য দেখা যায়।

যুক্তরাজ্যের বার্ষিক ‘অক্সফোর্ড ফার্মিং কনফারেন্সে’ সম্প্রতি এক অভিনব দৃশ্য দেখা যায়। লেবার পার্টি নিয়ন্ত্রিত সরকারের পরিবেশমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সেখানে রাখা হয়েছিল প্রতীকী কফিন। ওপরে লেখা ছিল, ‘রিপ ব্রিটিশ এগ্রিকালচার, ৩০ অক্টোবর ২০২৪’। যার সরল অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর মারা গেছে ব্রিটিশ কৃষি। আর ওইদিনই ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস প্রস্তাবিত বাজেটে খামারের ওপর উত্তরাধিকার কর (ইনহেরিটেন্স ট্যাক্স) আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। সরকারের এ সিদ্ধান্ত দেশটির গ্রামীণ জনপদে যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, প্রতীকী কফিনকেই এর প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

তীব্র আন্দোলনের মুখে বড়দিনের আগেই নিজেদের অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন আনে যুক্তরাজ্য সরকার। শুরুর দিকে ১০ লাখ পাউন্ডের বেশি মূল্যের কৃষিজমিতে কর আরোপের কথা থাকলেও নতুন সিদ্ধান্তে এ সীমা বাড়িয়ে ২৫ লাখ পাউন্ড করা হয়। ন্যাশনাল ফার্মার্স ইউনিয়ন (এনএফইউ) ও কান্ট্রি ল্যান্ড অ্যান্ড বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের মতো সংগঠনগুলো এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও সাধারণ খাদ্য উৎপাদনকারীদের ক্ষোভ এতে কমেনি।

নিজের পোষা কুকুর ও প্রতীকী কফিনটি নিয়ে বিক্ষোভে যোগ দেন হ্যাম্পশায়ারের কৃষক ক্রিস্টোফার মার্চমেন্ট। তার দাবি, ‘উত্তরাধিকার করের নতুন নিয়মের দুশ্চিন্তায় এরই মধ্যে অন্তত দুজন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। তারা চেয়েছিলেন সন্তানদের কাছে নিজেদের খামার রেখে যেতে। মানুষ যখন এভাবে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে, তখন সরকারের বোঝা উচিত যে তাদের নীতিতে নিশ্চিতভাবেই বড় কোনো গলদ রয়েছে।’

বিক্ষোভে অংশ নেয়া ট্রাক্টরগুলোয় ঝোলানো ছিল বিভিন্ন ধরনের স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড। কোনোটিতে লেখা ছিল, ‘লেবার পার্টি আমাদের গ্রামীণ অঞ্চল ধ্বংস করছে’। আবার কোনোটিতে অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভসকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে, ‘আমাদের ফসল প্রয়োজন, রিভসকে নয়’।

বাকিংহামশায়ারের তিন প্রজন্মের কৃষক ডেরেক পিয়ার্স মনে করেন, বর্তমান ব্রিটিশ সরকার গ্রামীণ জীবনযাত্রা সম্পর্কে কিছুই বোঝে না। সরকার শুধু কৃষি নয়, বরং গ্রামীণ ব্যবসা, সামাজিক মিলনস্থল হিসেবে পরিচিত পাব ও মৎস্য খাতের ওপরও চড়াও হচ্ছে।

গত সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেয়া পরিবেশমন্ত্রী এমা রেনল্ডস সম্মেলনে কৃষকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেন। সাম্প্রতিক তুষারপাতের সময় সড়ক পরিষ্কারে কৃষকদের ভূমিকার প্রশংসা করে তাদের ‘জাতীয় জীবনের প্রাণকেন্দ্র’ বলে অভিহিত করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কৃষকদের দাবি আমলে নিয়েছে বলেই উত্তরাধিকার করমুক্ত জমির সীমা ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২৫ লাখ পাউন্ড করেছে। তবে এ খাতের জন্য ভবিষ্যতে আর কোনো নতুন ছাড় দেয়া হবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘২০২৪ সালের নির্বাচনে আমরা গ্রামীণ দুর্গ জয় করেছি। পার্লামেন্টে আমাদের ১৩৬টি গ্রামীণ বা আধাগ্রামীণ আসন রয়েছে। আমি প্রতি সপ্তাহেই সেসব এলাকার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলি। গ্রামীণ জনপদে প্রবৃদ্ধির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে; যা শুধু কৃষিতেই নয় বরং পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের মতো আরো অনেক ক্ষেত্রেও বিস্তৃত।’

এনএফইউ প্রেসিডেন্ট টম ব্র্যাডশ সরকারের মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘সরকারকে অবশ্যই কৃষক ও গ্রামীণ সম্প্রদায়ের কাছে তাদের গুরুত্ব প্রমাণ করতে হবে। বর্তমানে কৃষকরা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। সরকার আসলে অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদনকে গুরুত্ব দিচ্ছে কিনা, তা পরিষ্কার নয়।’

আরও